বার্সার জন্য ম্যানসিটি ছাড়তেও রাজি গার্সিয়া

সংবাদ শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ার কী যেন এক জাদু আছে! একাডেমিতে কৃতিত্ব দেখিয়ে অনেক খেলোয়াড়ই বার্সার মূল দলে সুযোগ পান। লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুসকেটস, কার্লেস পুয়োল, ভিক্টর ভালদেস – যুগে যুগে বার্সার মূল দলকে খেলোয়াড়ের জোগান দিয়ে গেছে এই একাডেমি।
 
কিন্তু যারা মূল দলে সুযোগ পান না, তাঁরা?
 
নিয়মিত ফুটবল খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য তাঁরা পাড়ি জমান অন্য ক্লাবে। অন্য ক্লাবে গেলেও, তাঁদের মন পড়ে থাকে বার্সেলোনায়। অন্য ক্লাবে ভালো খেলে নজর কাড়লেও ক্যারিয়ারের কোনো একটা সময়ে বার্সেলোনায় ফিরে যাওয়ার জন্য আঁকুপাঁকু করে তাদের মন। সেস্ক ফ্যাব্রেগাস বা জেরার্ড পিকের কথাই ধরুন। মূল দলে সুযোগ না পেয়ে এই দুজন যথাক্রমে পাড়ি জমিয়েছিলেন আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। একই ভাগ্য বরণ করে জর্দি আলবা পাড়ি জমিয়েছিলেন ভ্যালেন্সিয়ায়। সেখানে নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন, বার্সাকে বুঝিয়েছেন, চাইলে কাতালান ক্লাবটার হয়েও খেলার সামর্থ্য আছে তাঁদের। পরে বার্সা ফিরিয়ে এনেছে ঘরের ছেলেদের।
 
পিকে, আলবা ও ফ্যাব্রিগাসের পথ ধরে এবার বার্সায় ফিরে আসতে চাইছেন আরেক ‘ঘরের ছেলে।’ তাঁর নাম এরিক গার্সিয়া। রক্ষণভাগে খেলেন, পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে। করোনাকালীন বিরতির পর সিটির অন্যতম প্রধান ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে। কিন্তু তা হলে কী হবে? তাঁর মন যে পড়ে আছে বার্সেলোনায়!
 
২০২১ সালে সিটির সঙ্গে গার্সিয়ার চুক্তি শেষ হবে। অর্থাৎ চুক্তির আর মেরেকেটে বছরখানেক বাকি আছে। কুশলী এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারকে দলে রাখার জন্য চুক্তি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে সিটি, কিন্তু গার্সিয়া রাজি হননি। ফিরতে চান বার্সেলোনায়। আর এই ব্যাপারটা গার্দিওলাই খোলাসা করেছেন সাংবাদিকদের কাছে, ‘ওর চুক্তির আর এক বছর বাকি আছে। ও আমাদের এর মধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে ও চুক্তি নবায়ন করতে চায় না। তাই আমরা ধরে নিতে পারি ও অন্য কোথাও খেলতে চায়।’
 
সে অন্য কোথায়টা যে কোন ক্লাব, বলে দিতে হচ্ছে না!
 
নিজেদের রক্ষণভাগের শক্তি বাড়ানোর জন্য ও দলের মূল ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের জায়গায় নতুন সেন্টারব্যাক হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির এরিক গার্সিয়াকে চাইছে বার্সা। পিকের বয়স হয়ে যাচ্ছে, আগের মতো তেমন ভালো খেলতে পারেন না নিয়মিত। এ ছাড়া ভবিষ্যতের চিন্তা তো আছেই। সবকিছু মিলিয়েই সিটির এই স্প্যানিশ তরুণকে মনে ধরেছে বার্সার। গার্সিয়া নিজেও সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে বার্সার বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড় ছিলেন বলে স্প্যানিশ ক্লাবটার ধরন-ধারণ আগে থেকে বেশ বোঝেন তিনি। বার্সেলোনায় এলে মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় নেবেন না হয়তো। সবকিছু মিলিয়েই বার্সার কোচ কিকে সেতিয়েনের মনে ধরেছে গার্সিয়াকে।
 
পিকের সঙ্গে গার্সিয়ার খেলার ধরনের মিলও আছে বেশ। দুজনই বল পায়ে অনেক স্বচ্ছন্দ। রক্ষণভাগ থেকে অনায়াসে বল বের করে মিডফিল্ডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।
চুক্তির যেহেতু আর বছরখানেক বাকি আছে, সেহেতু দেড় থেকে দুই কোটি পাউন্ড দিলেই সিটি থেকে গার্সিয়াকে আনতে পারবে বার্সেলোনা। এই দলবদল পাকাপাকি হতে কয়দিন লাগে, এখন দেখার বিষয় সেটাই!
_____________
সূত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *