৪৯ শিশু-কিশোরের মুক্তি: সাজা নয় হাতে দেওয়া হলো বই 

সংবাদ শেয়ার করুন
  • 37
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    37
    Shares
সু.সকাল ডেস্ক::

সুনামগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একসঙ্গে ৩৫টি মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে ৪৯ জন অভিযুক্ত শিশু-কিশোরকে সাজার বদলে সুন্দর জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেওয়া হয়। বুধবার (২০ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন অভিযুক্ত শিশু, তাদের অভিবাবক ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

এসময় আদালতের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের হাতে ১০০ মনীষীর জীবন নামে বই উপহার দেওয়া হয়। বিচারক জাকির হোসেন রায়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের শিশু-কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে ও সুন্দর পরিবেশ দেওয়ার আহবান জানান। অন্যদিকে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে তাদের প্রস্তুত হওয়ার জন্য উৎসাহ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চলমান ছিল। রায়ে বাদী এবং বিবাদী পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিশু-কিশোররা জানান, তাদের নামে মামলা থাকার কারণে প্রতিমাসে আদালতে হাজিরা দিতে হতো। লেখাপড়া বাদ দিয়ে আদালতে হাজির হওয়ায় তাদের পড়ার ক্ষতি হচ্ছিলো। এখন আদালতের আদেশে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করে তারা।
অন্যদিকে প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, শিশুদের শর্ত মেনে চলার বিষয়টি দেখভাল করা হবে।
সুনামগঞ্জ সনাকের সভাপতি এড আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় আদালতের রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি মামলায় শিশুদের অভিযুক্ত করা হয়। দেশের বিভিন্নস্থানে লেখাপড়ায় থাকা শিশুদের বাড়ির ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত দুই কারণে করা হয়। একটি হলো শিশুর জীবনকে নষ্ট করে দেওয়া ও পরিবারের সুন্দর আগামীকে অন্ধাকর করে দিতে এমন করা হচ্ছে। মামলায় আসামি করার আগে তদন্ত কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
শিশু আদালতের পিপি নান্টু রায় বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থেকে সুষ্ঠু জীবনে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে আদালত রায় দিয়েছেন। শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এর আগেও ১৪ জন শিশুকে শর্তযুক্ত মুক্তি দিয়েছেন।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, শিশুরা হলো জাতির ভবিষ্যত। তারা বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে নানান মামলায় জড়িত ছিল। আদালত শিশু আইনের বাস্তবায়ন ও শিশু অধিকার রক্ষায় এ রায় দিয়েছে। শিশুদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখার জন্য অভিবাবকদের আদেশ দেওয়া হলো। যাতে শিশুরা আবারও অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে।
সংবাদ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *