আজকের শান্তিগঞ্জ ও সুবিপ্রবি’র স্থান নির্ধারণ নিয়ে কিছু কথা

সংবাদ শেয়ার করুন
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    32
    Shares

সামিউল কবির ::

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে চলছে জোরশোর বিতর্ক। আর সকল বিতর্কই চলছে সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে। এ নিয়ে ইদানিং সবাই পত্র পত্রিকায় বড় বড় কলাম লিখছেন। ভাবলাম আমিও কিছু লিখি। আমরা যেমন নিজের খবর অতটা রাখিনা, কিন্তু আবার সময় পেলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে চা’র কাপে তর্কের ঝড় তুলি। জিতবে কে, ট্রাম্প না বাউডেন? আবার এমনও হয় পাশের দেশ মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের নাম কি আমরা বলতে পারি না। যাইহোক মূল কথায় আসি, সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এতো দিনে আমরা সবাই জেনে গেছি যে নিজের জেলায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় হবে। আমাদের জন্য সত্যিই এই খবরটা খুবই আনন্দের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি কোথায় কোন উপজেলায় স্থাপিত হবে তার স্থান নির্ধারণ নিয়ে ফেইসবুকে যা চলছে সেটা একদম বিরক্তিকর। সামগ্রিক বিবেচনায় জেলা সদরের পাশের উপজেলা শান্তিগঞ্জ (প্রস্তাবিত)-এ ইহা স্থাপনের প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা ও জেলার অন্যান্য উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ বলছেন ভার্সিটির স্থান নির্বাচন ঠিকই আছে। কিন্তু আজকাল অনেকেই কলাম লিখতে গিয়ে দেখি উদাহরণ দেন অক্সফোর্ড আর ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির। তাই এবার আসুন…
বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি আর টপ ফাইভে থাকা ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে আগে একটু জেনে নেই। লন্ডন শহর থেকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির দূরত্ব প্রায় ৮৮ কিলোমিটার। আর ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে লন্ডনের দূরত্ব ৭৮ কিলোমিটার। আর দূরত্বের দিক থেকে যদি বিবেচনা করি তাহলে বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনুরুপ ও পরিকল্পনা মাফিক বিশ্ববিদ্যালয় আজ পর্যন্ত একটিও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে স্থান নির্ধারণ নিয়ে আরেকটি বিষয় না বললেই নয়। যেমন, দেখেছি প্রায় সময় বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে আমরা সবাই এত বেশি চিৎকার করি। কিন্তু এখন কেন্দ্রীকরণ নিয়ে এত আন্দোলন করছি কেন? আসলে কিছু মানুষ না বুঝেই আন্দোলন করে। বৃহত্তর উন্নয়নের স্বার্থে বিকেন্দ্রীকরণ যে কতোটা জরুরি আমরা খেয়ালই করতে পারিনা। এই ধারণা না থাকায় রাজধানী ঢাকার আজ এই অবস্থা। এদিকে আমরা দেখি সদর উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বলবো কিছু সংখ্যক মানুষ আন্দোলন করছেন। ইতোমধ্যে তাঁরা এই আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন’ আচ্ছা এই নামকরণ টা কি ঠিক হলো? আফসোস অন্যান্য উপজেলার মানুষজন আমরা এখনও সুনামগঞ্জী হতে পারলাম না! শান্তিগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় হলে কি সুনামগঞ্জ বাঁচে না? না শান্তিগঞ্জ টা সুনামগঞ্জ জেলার বাহিরে?
আমি মনে করি এই কমিটির নামকরণ টা এমন হওয়া উচিত ছিলো- ‘সদর উপজেলা বাঁচাও আন্দোলন।’ তাহলে নামকরণটি যথার্থ সার্থক হতো! তখন আমাদেরও এই নাম নিয়ে আর আপত্তি থাকতো না।

শুনুন, কারো শরীর বা মাংস কেটে শান্তিগঞ্জের জন্ম হয়নি। মনে করুন একসময় প্রায় ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বড় একটা উপজেলা ছিল সদর। সেটা ভাঙ্গা বা আলাদা হওয়া ছিল সময়ের উত্তম দাবি। আমরা যেমন ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো স্বাধীনতার পর প্রায় ৪০ বৎসর ছিলাম সদরের সাথে। এতে কি আমরা অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হয়নি? আপনারা তা ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু আমরা ভুলবোনা। আমাদের মনে এখনও সেটা আছে। দু’একটি উদাহরণ না দিলেই নয়: আপনারা কখনও আমাদের দক্ষিণ বলতেন না। বলতেন সুনামগঞ্জ সদরের একাংশ। একাংশ হিসেবে বেঁচে থাকা যে কি কত কষ্টের কত অপমানের আপনাদের বলে বুঝানো যাবেনা। ধরুন যখন এমপি ভোট হতো আমরা চলে যেতাম জগন্নাথপুরের সাথে আর উপজেলা চেয়ারম্যান ভোট আসলে থাকতাম আপনাদের সাথে। থাকতামই শুধু কাগজে কলমে লাভের লাভ কিছুই হতো না আমাদের।

একটা পত্রিকার শিরোনামে দেখলাম ‘শান্তিগঞ্জে অশান্ত সুনামগঞ্জ’ বলা হয়েছে, আমি বলি কিভাবে? এটা কোনো কথা হলো? এখানেও ভুল! বলতে পারতেন ‘সদর উপজেলার কিছু মানুষ শান্তিগঞ্জে অশান্ত’ কারণ এই আন্দোলনের সাথে জেলার অন্যান্য উপজেলার জনগণ অংশ নেননি। তাদের কাছে এই আন্দোলনের কোনো মানে নেই। মূলত সব উপজেলার সর্বস্তরের মানুষেই চান পুরো জেলার উন্নয়ন। বেশিসংখ্যক মানুষের ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিগঞ্জ হোক বা ছাতকে হোক সমস্যা নেই। তা সুনামগঞ্জ জেলায় তো হচ্ছে। কথা হচ্ছে কি একটা জায়গায় আসলে কিছু মানুষ নিজের স্বার্থ টা আগে দেখে পেলে।
পরিকল্পনামন্ত্রীর বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় এবং তিনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার মানুষ। তাঁর আমলে উন্নয়নের ছোঁয়া তুলনামূলকভাবে দক্ষিণে একটু বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। এর আগে অতীতে যেমন আমরা সাইফুর রহমান সাহেবের সময় মৌলভীবাজারে দেখেছি, তাঁর নির্বাচনী আসন ছিল সদর ও রাজনগর। কিবরিয়া সাহেবের সময় হবিগঞ্জে দেখেছি, তাঁর নির্বাচনী আসন ছিল হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই। মুহিত সাহেবের সময় সিলেট সদরেও দেখেছি, তাঁর নির্বাচনী আসন ছিল সিলেট সিটি ও সদর উপজেলা। বিগত দিন ধরে এমনটাই হয়ে এসেছে সবসময় এবং ভবিষ্যতেও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয়না। এরমধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন হবিগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। এখন আমার কথা হচ্ছে, যারা এর পেছনে অগ্রণী ভুমিকা রেখেছেন এসকল জনপ্রতিনিধিরা সদরেরই এমপি ও মন্ত্রী। তাঁরা তাদের নির্বাচনী এলাকার মানুষের দাবি পূরণ করেছেন। যেমন, হবিগঞ্জ সদরের এমপি হচ্ছেন মো. আবু জহির সাহেব এবং চাঁদপুর সদরের এমপি হচ্ছেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দিপু মনি। তেমনি মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ও উনার নির্বাচনী এলাকার মানুষের দাবি পূরণ করবেন আর এটাই স্বাভাবিক ও স্বতসিদ্ধ। এখন যদি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ বা শান্তিগঞ্জে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে সেটা তো আমাদের সুনামগঞ্জেই। সমস্যা কোথায়?
হ্যাঁ, সমস্যা একটা আছে। তখন শহরের সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা তাদের ব্যক্তিগত ফায়দা ও স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারবেন না। তাই বলে শহরে সবাই নয় কিছু ভদ্রলোকগণ কখনো চাইবেন না যে শহরের পাশেই একটি বড় প্রকল্প গড়ে উঠুক৷ এদের মনমানসিকতা হলো এমন নিজে কিছু করবোনা অন্যকে করতেও দিবোনা।
এখনও, আমার স্পষ্ট মনে আছে। সদরের মদনপুর নামক স্থানে যখন ‘সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ স্থাপনের স্থান নির্ধারণ হলো তখনও শহরের কিছু রাজনীতিবিদ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজপথে কি বিশ্রী আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু সরকার তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে একটুও সরে আসেনি। আশা করছি এবারও তাই হবে। এছাড়া আমরা অতীতেও এমন মেগা প্রকল্প স্থাপনে বহু আন্দোলন দেখেছি। যেসব উন্নয়ন বিরোধী আন্দোলন কখনো সফল হয়নি।

নিজের এলকায় কিছু হোক এটা মানুষের জন্মগত সহজাত প্রবৃত্তি। এই সহজাত প্রবৃত্তি আপনার আছে আমারও আছে। কিন্তু এই সহজাত প্রবৃত্তি টা আপনারা যত সহজে দেখাতে পারছেন আমরা তা পারতাম না। আমরা যে এখন এটা পারছি এটা আমাদের ভাগ্য। ভাগ্যই শান্তিগঞ্জকে আজ এখানে এতোদুরে নিয়ে এসেছে।

আপনারা বলেন জেলার মস্তিষ্ক হলো সদর উপজেলা। হ্যাঁ ঠিক। কিন্তু অন্য উপজেলা গুলোও জেলার হাত, পা ও পুরো শরীর। শুধু মস্তিষ্কের যত্ন নিলে চলেনা। অন্য অঙ্গ প্রতঙ্গেরও যত্ন নেওয়া দরকার। মস্তিষ্ক ভাল আছে কিন্তু অন্য অঙ্গ প্রতঙ্গ গুলা অকেজো সেটা তখন হয়ে যায় শারীরিক প্রতিবন্ধী। জেলা শহরের মস্তিষ্ক অনেক শার্প আছে কারণ এতোদিন তো এই মস্তিষ্ককে অনেক শাইনিং করা হইছে। এটা শহর তো, এখানে বাতি যখন একবার জ্বলছে নিশ্চয়ই আর নিভবে না। বর্তমানে জেলা শহরে যে সমস্যা গুলো রযেছে যেমন- যানজট সমস্যা , ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবার মান না পাওয়া, সরকারি এতো স্কুল কলেজ থাকার পর লেখাপড়ার মান অত উন্নত নয়। দেখেন এখানে আরেকটু যত্নশীল হওয়া যায় কিনা। তখন শহর টাও বেঁচে যায়।
ইতিহাসে থেকে আমরা জানি ৯০ দশকের দিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একটি স্বতন্ত্র উপজেলা বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভাটি বাংলার সিংহ পুরুষ উন্নয়নের রুপকার পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান তখন সরকারি চাকুরীতে ছিলেন, তিনিও তাদের কথা দিয়েছিলেন, আপনারা আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। প্রয়োজনে আমি আপনাদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারবো। এমনিভাবে দীর্ঘ আন্দোলন ত্যাগ, প্রতিক্ষা ও কষ্টের পর এলো সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের দিন।

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২৭ জুলাই ২০০৬ ইং তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশের ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা করা হয়। এর ফলে ১৮ ই মে ২০০৮ সাল থেকে এ উপজেলাটি নবসৃষ্ট উপজেলা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। সুনামগঞ্জের মানচিত্রে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নামে সৃষ্টি হয় জেলার ১১ তম উপজেলা। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নামে হলেও এর প্রশাসনিক সকল অবকাঠামো স্থাপিত হয়েছে শান্তিগঞ্জ নামক স্থানে। এদিকে সিলেটের রয়েছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আর সুনামগঞ্জে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। তাই রাজধানী ঢাকা তে এর দুটির নাম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে।

সময়ের পরিক্রমায় এ উপজেলার নাম পরিবর্তনের দাবি উঠে সর্ব মহলে। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীও তাদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেছিলেন। এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার নতুন নামকরণের প্রস্তাবিত নাম দেওয়া হয়েছে শান্তিগঞ্জ। নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।আশা করি কিছুদিন পরেই হয়তো এর গেজেট আসবে।

কিছু মানুষ এখানেও আবার ‘ঘি’র মাঝে কাটা বাঁছবেন’ বলেন সুনামগঞ্জ নামটি কেন বাদ দিবেন? আচ্ছা বলেন তো দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নাম কেন থাকবে? তাহলে সুনামগঞ্জে কি উত্তর সুনামগঞ্জ, পূর্ব সুনামগঞ্জ, পশ্চিম সুনামগঞ্জ নামে কোন উপজেলা আছে? বলেবেন নাই। তাহলে আমি মনে করি এ উপজেলার নামেও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নামটি যুক্তিযুক্ত হয়নি। কারণ এ উপজেলায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নামে কোন স্থানই নেই। আবার অনেকে প্রশ্ন রাখবেন প্রথম কেন এমন নামকরণ হলো? সেটা ছিলো সেই সময়ের বিষয়। তখন উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির কাছে নাম ফেক্টর ছিলোনা। ছিলো শুধু সেপারেশন এর চিন্তা। এখন সময় এসেছে আমরা এ ভুল সংশোধন করার, ইনশাআল্লাহ ইতিমধ্যে আমরা তা করতেও পেরেছি।

একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে চাইবো আমার উপজেলার একটা স্বতন্ত্র নাম থাকবে আর এটাতো স্বাভাবিক বিষয়। এবং এটাই উচিত। ‘সুনামগঞ্জ’ শব্দটি যুক্ত না রেখে নতুন নামে এগিয়ে যাওয়ার মানে সুনামগঞ্জ কে ছাড়িয়ে যাওয়া বা নিজের অস্তিত্ব কে ভুলে যাওয়া নয়। ঢাকা গেলে তো ঠিকই বলি আমার জেলা সুনামগঞ্জ।
এবার আমরা জানবো দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সীমানা। সেই ম্যাপে যদি চোখ বুলাই তাতে দেখা যায় এর উত্তরে- সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণে- জগন্নাথপুর, পূর্বে- ছাতক ও জগন্নাথপুর, পশ্চিমে- দিরাই ও জামালগঞ্জ রয়েছে। জেলা শহর থেকে এ উপজেলার দুরত্ব মাত্র ১৫ কি: মি:। আমরা দেখি এ উপজেলায় ইউনিয়ন রয়েছে ৮ টি আর গ্রাম রয়েছে ১৫৫ টি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দিক থেকে এ উপজেলার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। আছে অনেক হাওর বাওর ও নদ-নদী। উল্লেখ করার মতো হাওর হলো- দেখার হাওর, সাংহাই হাওর। এবং নদ-নদীর মধ্যে সুরমা, মহাসিং, চাপটি সহ অসংখ্য মরা নদী রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই সুনামগঞ্জের অলিগলি চেনাজানা পুরো জেলার ভৌগোলিক অবস্থা তাঁর নখদর্পনে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা থাকাকালীন সময়ে সাংগঠনিক সফরে এই সুনামগঞ্জেে বহুবার এসেছেন। তিনি চিনেন ও জানেন যে শান্তিগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে আর এটা হলো জেলার একটা মধ্যবর্তী স্থান। এছাড়া ইন্টারনেট ও গ্লোবালাইজেশন এর যুগে তিনি কাউকে বলবেন না যে শান্তিগঞ্জ টা কোথায় আমাকে বলো, গুগলে সার্চ দিলেই তিনি নিজেই আবার দেখে নিতে পারবেন এর আসল অবস্থান। সবচেয়ে বড় কথা সরকারের একজন ক্লিন হিমেজধারী হেভিওয়েট মন্ত্রী হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন এই হাওর পাড়ের কৃতি সন্তান আলহাজ্ব এম এ মান্নান (এমপি)। লোকের মুখে শুনেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মন্ত্রী মহোদয়কে খুব বেশি বিশ্বাস করেন। মন্ত্রী মহোদয়ের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হোক। আমরা দোয়া করি অতীতের মতো বর্তমানে এই বিশ্বাসেরও প্রতিফলন ঘটুক।

লেখক: সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *