এ বর্বরতার অবসান কবে হবে?

সংবাদ শেয়ার করুন
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

ইশতিয়াক রুপু::

সিলেটে রাহয়ান হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশ বাহিনীর সদস্য পলাতক আকবর ভূঁইয়ার সংবাদ দিতে পারলে নিউ জার্সি রাজ্যে বসবাসকারি আমেরিকা প্রবাসী সামাদ খাঁন ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করেছেন। এতে দুটো বিষয় দিনের আলোর ন্যায় স্পষ্ট।

 

সিলেটে ঘটে যাওয়া এমন অবিচারে সিলেটবাসীর ন্যায় প্রবাসে বসবাসরত সব সিলেটি প্রবাসী ফুঁসে উঠেছেন স্মরণকালের এ নৃশংসতা দেখে। মাত্র দশ হাজার টাকার জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে একটি তাজা প্রাণ কিভাবে কেড়ে নিলো। নিষ্ঠুর এ ঘটনার নায়ক এসআই আকবরকে সাতদিনের মাথায়ও পুলিশ কেন গ্রেফতার করতে পারছে না। আকবর গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অপরাধ কর্মকাণ্ডের মূল হোতা বলে বহুল আলোচিত এই আকবর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে সিলেট ছেড়ে গেলেন সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে।

 

সিলেটের সুশীল সমাজসহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, একজন আকবরের দায় পুরো পুলিশ বাহিনী কেনো বহন করতে হবে। দেশের সর্ব্বোচ নীতি নির্ধারণ ক্ষেত্রে এ গুরুতর অভিযোগ রেখে এসআই আকবর ও তার সাথীদের গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করে পুলিশ বিভাগ দায় মুক্ত হোক।

 

নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে থাকেন, অনেক কষ্ট করেছি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে। যখন সুখের সময় এলো তখনই সবশেষ করে দিলো এস আই আকবর ভূঁইয়া। তিনি জানান, কয়দিন পর রায়হান আমেরিকা চলে যাবার কথা। সব তছনছ হয়ে গেলো মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য। তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালে দিকে ছেলে বিয়ে করে । ছোটখাটো চাকরি করলেও সংসারে আনন্দ ছিলো সীমাহীন। স্ত্রী-সন্তান ও মায়ের প্রতি রায়হানের ভালোবাসার কমতি ছিল না। ছেলের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমেরিকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন মা সালমা বেগম। 

 

সমগ্র সিলেট বিভাগসহ দেশের সকল শান্তি প্রিয় জনগনের মত আমেরিকা জুড়েও এ ধরণের চরম নৃশংসতার প্রতিবাদ চলছে বাঙ্গালী অধ্যূষিত সকল বড় বড় শহরগুলোতে।

গতসপ্তাহে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটে বিরাট একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। তেমনি নগরীর বর্ঙ্কস ও জ্যামাইকাতে চলে প্রতিবাদ। প্রবাসীদের দাবি, অবিলম্বে এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হোক। দোষী পুলিশদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচারের ব্যবস্থা নেয়া হোক।

 

প্রবাসীরা প্রশ্ন তুলেন, আমেরিকার এক শহরে পুলিশ কর্তৃক একজন কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার পর পরই সকল অভিযুক্ত পুলিশদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারলে একজন নিরীহ সিলেটি যুবককে নির্মম প্রহার করে হত্যা করবার পরও একজন পুলিশ অফিসারকে গ্রেফতার না করবার কারণ সত্যি কি রহস্যাবৃত? প্রবাসীরা দেশে গেলে নিজেদের জানমালের নিরপত্তা চান বলেই পুলিশ বাহিনীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনদের খুঁজে বের করার দাবি তুলেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *